দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে বর্তমানে দলিল রেজিস্ট্রির হার আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এই স্থবিরতার ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে নতুন করে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন শর্ত ও কর সংক্রান্ত জটিলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক সার্কুলার অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১২৫ ধারা এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই আইনের ১২৫ ধারায় দানকর-বিষয়ক উপধারা (২ক) সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাকে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে দানকর এ-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। এটি শুধু হেবা বা দানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নয়। ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শুধু উৎসে কর সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার রশিদে ২০২৬-২৭ সনের পরিশোধের তথ্য না থাকলে দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে না। এছাড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার ক্ষেত্রে বিক্রয় কবলা, বায়নানামা, লিজ বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের জন্য আয়কর রিটার্ন (পিএসআর) দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার বদলে নতুন নিয়মে জটিলতা বাড়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। বিভিন্ন কর অঞ্চলে আয়কর ও দানকর জমার নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কোড ও অটোমেটেড চালানের (এ-চালান) কপি দলিলের সঙ্গে জমা দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। তবে সতর্কবার্তা হলো, এ-চালান হয়ে যাওয়ার পর কোনো কারণে দলিল রেজিস্ট্রি না হলে সেই টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়, তাই দলিল করার আগে সবকিছু নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের ভাষ্যমতে, পিতা-মাতা থেকে সন্তান, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে এবং সহোদর ভাইবোনের মধ্যে হেবার ক্ষেত্রে আগের মতোই কোনো কর দিতে হবে না। শুধুমাত্র প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দানকরের অন্যান্য বিধানগুলো কার্যকর থাকবে। মূলত বিভ্রান্তি দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারা।

















