প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ২১। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের সেই ঘটনার পর গত ২৫ বছরে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ধরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন দীর্ঘ সময় ধরে তালেবান, আইএসআইএস বা ইরাকের মতো অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত ছিল, ঠিক সেই সুযোগে রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রযুক্তির উদ্ভাবন নেটোর দীর্ঘদিনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার বলেন, এই শতাব্দীর প্রথম ২০ বছর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যয় করার ফলে চীনকে একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার সুযোগ পশ্চিমা বিশ্ব হাতছাড়া করেছে। একই সুর শোনা গেছে জেনারেল শিরেফের কণ্ঠে, যিনি ২০১৬ সালে তার ‘ওয়ার উইথ রাশিয়া’ বইয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তা কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগানোই আসল চ্যালেঞ্জ।
সিবিলাইনের প্রধান বিশ্লেষক স্যাম অলসেনের মতে, ৯/১১-এর পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ হারানোর পাশাপাশি চীনের উত্থানকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, অর্থনৈতিক একীভবনের মাধ্যমে চীন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের সমান্তরালে আসবে। বর্তমানে এমআই৬-এর অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা লক্ষ্যবস্তু চীন। অলসেন আরও বলেন, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের বিচ্ছিন্ন কিছু দিক বুঝতে পারলেও সামগ্রিক চিত্রটি ধরতে হিমশিম খাচ্ছে। চীনের শক্তি এখন কেবল সামরিক অস্ত্র বা জাহাজে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সেমিকন্ডাক্টর, খনিজ সম্পদ, টেলিযোগাযোগ ও শিল্প সক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিস্তৃত।
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতির সাথে সাথে এই বৈশ্বিক পরিবর্তন আরও দ্রুততর হবে। তবে এই জটিল বিশ্বে কেবল পশ্চিমা দেশগুলোই কৌশলগত ভুল করছে না, বরং রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন কিংবা ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের গাজা থেকে চালানো হামলাও বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ইরাক যুদ্ধ বা আফগানিস্তান থেকে তড়িঘড়ি করে সেনা প্রত্যাহারের মতো বড় বড় কৌশলগত ও জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আজও বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার বলেন, ‘আমরা এই শতাব্দীর প্রথম ২০ বছর প্রায় সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বিদ্রোহ দমনে ব্যয় করেছি। সামরিক শক্তি এবং কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চীনের উত্থান আমরা দেখতেই পারিনি।’
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিপর্যয়কর পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলা, যাকে কেউ কেউ ইসরাইলের 'নিজস্ব ৯/১১' বলে বর্ণনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে বড় কৌশলগত ও জাতীয় অনেক সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

















