রাজনীতি

কারিগরি ত্রুটি নাকি নাশকতা, রহস্য খতিয়ে দেখার আহ্বান রিজভীর

প্রতিবেদক
সব খবর

দেশে বর্তমানে যে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও সংকটের ঘটনা ঘটছে, তা নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা বা কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত করার পেছনে কোনো চক্রান্ত কাজ করছে কি না, তাও যাচাই করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মাত্র ছয় মাসের পুরনো সরকারের ওপর সরাসরি দায় চাপানো কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে এবং তা মেরামতের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট অকেজো হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে, তা নিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিজভী আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে এবং ভারতের সাথে চুক্তির আওতায়ও বকেয়া অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তবুও কেন একের পর এক সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি বিরোধীদলের ভূমিকার বিষয়ে বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বা সংসদে ও রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া বিরোধীদলের কাজ। তবে অহেতুক বা অলীক কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত হইচই করা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করে না। বাস্তবসম্মত বিষয় নিয়েই বিরোধীদলের কথা বলা উচিত।

সাম্প্রতিক সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের বিষয়ে তিনি বলেন, রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করেছে। এছাড়া সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবকের হাতে থাকলে তা পরিবারের কল্যাণে বেশি কার্যকর হয়। এছাড়া বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা এবং ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সব খবর