শিক্ষা

ক্ষমতার দাসত্ব নয় মুক্তচিন্তা ও মুক্তির হাতিয়ার হোক শিক্ষা

প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জে বাড়ছে সর্দি-জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ, জনমনে আতঙ্ক সিরাজগঞ্জে বাড়ছে সর্দি-জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ, জনমনে আতঙ্ক হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় মঙ্গলবার ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী নিয়ে নির্ধারিত আঞ্চলিক মন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে নির্ধারিত আঞ্চলিক মন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের ইতিবৃত্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের ইতিবৃত্ত টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই অ্যারিজোনায় চার্লি কার্কের স্মৃতিস্তম্ভে ভাঙচুর ও রঙ ছিটিয়ে বিকৃতি অ্যারিজোনায় চার্লি কার্কের স্মৃতিস্তম্ভে ভাঙচুর ও রঙ ছিটিয়ে বিকৃতি পটিয়ায় ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি এনাম পটিয়ায় ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি এনাম চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু রায়হান ফিরল অঙ্গ হারিয়ে চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু রায়হান ফিরল অঙ্গ হারিয়ে
সব খবর

একটি জাতি দীর্ঘমেয়াদে কতটা সভ্য, মানবিক এবং সৃজনশীল হয়ে উঠবে, তা মূলত নির্ধারিত হয় তার শিক্ষাব্যবস্থার চরিত্র ও দর্শনের ওপর ভিত্তি করে। সাময়িকভাবে কোনো রাষ্ট্র হয়তো সামরিক, অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু একটি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থাই কেবল জাতীয় আদর্শ ও নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে সমস্ত জাতি জ্ঞানচর্চা এবং মুক্তবুদ্ধির বিকাশকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দিয়েছে, তারাই টেকসই সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়ন অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে, শিক্ষার অবক্ষয় ও বৌদ্ধিক স্বাধীনতার সংকোচন একটি জাতির সামগ্রিক পশ্চাৎপদতার মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। তাই শিক্ষার সামগ্রিক মুক্তিই মূলত একটি জাতির প্রকৃত মুক্তির পথ উন্মোচন করে।

শিক্ষা কেবল কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির যন্ত্র নয়, বরং এটি মানুষের চিন্তা, বিবেক ও নাগরিক সচেতনতা গঠনের প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে চলে আসে—আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি সত্যিই মুক্তবুদ্ধি ও মানবিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে? এই সংকটের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো (খ্রিস্টপূর্ব ৪২৭-খ্রিস্টপূর্ব ৩৪৭) থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের মার্কিন শিক্ষাবিদ জন ডিউই (১৮৫৯-১৯৫২) এবং ব্রাজিলের শিক্ষাবিদ পাওলো ফ্রেইরি (১৯২১-১৯৯৭) পর্যন্ত প্রত্যেকেই শিক্ষা ও নাগরিক জীবনের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন। মানুষ যেহেতু সমাজে বাস করে, তাই শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির বাইরে থাকতে পারে না। তবে একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, দলীয় আনুগত্যের দাস বানানো নয়।

নাগরিক শিক্ষা মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে এবং যুক্তির আলোতে প্রশ্ন করতে শেখায়। অন্যদিকে, দলীয়করণ মানুষকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর অনুগত করে তোলে, যেখানে স্বাধীন চিন্তার চেয়ে অন্ধ আনুগত্য বেশি প্রাধান্য পায়। যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, তখন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এর ফলে কেবল শিক্ষাব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ভবিষ্যৎ ও অগ্রগতি থমকে দাঁড়ায়। আমাদের মনে রাখা দরকার, শুধু সনদ অর্জন বা তথ্য মুখস্থ করার নাম শিক্ষা নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে নিজের বিবেকের মুখোমুখি হতে শেখায় এবং সত্য অনুসন্ধানের সাহস জোগায়। সমাজে শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য পরিমাপ করা হয় কতজন মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করে।

ব্রাজিলীয় শিক্ষাবিদ পাওলো ফ্রেইরি তাঁর বিখ্যাত ‘অत्याচারিতের শিক্ষা’ (পেডাগোজি অব দ্যা অপ্রেসড) গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, শিক্ষা যদি শুধু তথ্য জমা রাখার যান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়, তবে তা মুক্ত মানুষের বদলে অনুগত মানুষ তৈরি করে। তিনি একে ‘শিক্ষার ব্যাংকিং মডেল’ (ব্যাংকিং মডেল অব এডুকেশন) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীকে একটি শূন্য পাত্র বিবেচনা করে শিক্ষক কেবল তথ্য জমা করেন। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বা নিজস্ব চিন্তার কোনো মূল্য থাকে না, ফলে শিক্ষা হয়ে ওঠে কর্তৃত্ব বজায় রাখার হাতিয়ার। ফ্রেইরির মতে, প্রকৃত শিক্ষা হতে হবে সংলাপভিত্তিক ও মুক্তিকামী, যা মানুষকে বাস্তবতা পরিবর্তনের সক্ষমতা দেয়। সভ্যতার অগ্রগতিতে প্রশ্ন করার ভূমিকা অপরিসীম। সক্রেটিসের (খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০-খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯) প্রশ্ন, গ্যালিলিওর বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, আইজাক নিউটনের (১৬৪৩–১৭২৭) পর্যবেক্ষণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১–১৯৪১) মুক্তচিন্তা এবং জগদীশচন্দ্র বসুর (১৮৫৮-১৯৩৭) গবেষণামনস্কতা—সবকিছুর পেছনেই ছিল প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করার সাহস।

দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় সংকট হলো, অনেক সময়ই শিক্ষাকে জ্ঞানার্জনের চেয়ে আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে পরিণত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলের উপায় শেখানো হলেও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার দীক্ষা দেওয়া হয় না। তারা মুখস্থ করা উত্তর লিখতে পারে, কিন্তু নতুন কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে না। ফলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অনুসন্ধিৎসু মনের পরিবর্তে মুখস্থনির্ভর সাফল্যের সংস্কৃতি জেঁকে বসছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শিক্ষার্থীরা খুব ছোটবেলা থেকেই ক্ষমতার প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য প্রকাশের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তারা সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর চেয়ে ক্ষমতাবানদের খুশি রাখার কৌশল রপ্ত করছে। অথচ ইতিহাসের প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল এমন কিছু মানুষের হাত ধরে, যারা প্রতিষ্ঠিত অন্যায়ের সামনে নত না হয়ে সত্য ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।

শিক্ষা যদি মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও নৈতিক সাহস জাগ্রত করতে না পারে, তবে তা কেবল দক্ষ কর্মী তৈরি করবে, সচেতন নাগরিক নয়। শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিকীকরণ আজ আমাদের এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী পিয়েরে বুর্দিয়ো (১৯৩০-২০০২) তাঁর ‘সাংস্কৃতিক পুঁজি’ ও ‘সামাজিক পুনরুৎপাদন’ তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবসময় নিরপেক্ষ থাকে না; অনেক সময় এটি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য ও ক্ষমতা কাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যখন মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়োগ, পদোন্নতি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার বৌদ্ধিক স্বাধীনতা হারায়। এর ফলে মেধাবীরা নিরুৎসাহিত হন এবং আনুগত্যের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী রূপ নেয়।

শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মূল পরিচয় আজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তারা একাডেমিক সহযোগিতা ও গবেষণার পরিবর্তে ক্ষমতার সমীকরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। ফলস্বরূপ, ভিন্নমতকে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় না ভেবে রাজনৈতিক শত্রুতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিভক্ত শিক্ষাঙ্গনে যুক্তির বদলে স্লোগান এবং গবেষণার বদলে দলীয় পক্ষপাত প্রাধান্য পাচ্ছে। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, যে সমাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে একাডেমিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, তারাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে গেছে। আমরা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তবুদ্ধি ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, তবে হয়তো সনদধারী মানুষের সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু স্বাধীন ও সৃজনশীল নাগরিক তৈরি হবে না। নিবন্ধটির লেখক যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটনের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি।

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে সর্দি-জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ, জনমনে আতঙ্ক সিরাজগঞ্জে বাড়ছে সর্দি-জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ, জনমনে আতঙ্ক হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় মঙ্গলবার ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী নিয়ে নির্ধারিত আঞ্চলিক মন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে নির্ধারিত আঞ্চলিক মন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের ইতিবৃত্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের ইতিবৃত্ত টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই অ্যারিজোনায় চার্লি কার্কের স্মৃতিস্তম্ভে ভাঙচুর ও রঙ ছিটিয়ে বিকৃতি অ্যারিজোনায় চার্লি কার্কের স্মৃতিস্তম্ভে ভাঙচুর ও রঙ ছিটিয়ে বিকৃতি পটিয়ায় ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি এনাম পটিয়ায় ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি এনাম চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু রায়হান ফিরল অঙ্গ হারিয়ে চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশু রায়হান ফিরল অঙ্গ হারিয়ে
সব খবর