ভোলার মনপুরা উপজেলার পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৭২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তর জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোলা জেলা পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজাদুর রহমান অর্থ আত্মসাৎ ও সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অর্থ আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা মেলায় মো. কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং অধিকতর তদন্ত শেষে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের উপকারভোগী সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. কামরুজ্জামান লালমোহন ও মনপুরা উপজেলায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের সদস্যদের ঋণের অর্থ, আদায়কৃত কিস্তি এবং প্রকল্পের হিসাবভুক্ত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। লালমোহন উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ইসলামপুর, দক্ষিণ তারাগঞ্জ, মঙ্গল সিকদার, রায়চাঁদ, মধ্য তারাগঞ্জ খানবাড়ি, রহিমপুর, ধলিগৌরনগর জেবলরাজ, বগিরচর, চরকালাচাঁদ, ভাঙ্গাপুল, দক্ষিণ বালুচর ও পূর্ব কিশোরগঞ্জ মৃধাপাড়া বিত্তিহীন মহিলা সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতি থেকে মোট ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মনপুরা উপজেলায় বদলি হয়ে আসার পর মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দল থেকে প্রায় ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, প্রকল্পের আয় অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আরও ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মনপুরায় ২৭ জন ব্যক্তির নামে-বেনামে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকার ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা আত্মসাতের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে, মো. কামরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকার ২০২৫ সালের জুন মাসে মনপুরা থেকে বদলি হয়ে যান। তার দায়িত্বাধীন ব্লকের বেশ কিছু ঋণ এখনও অনাদায়ী রয়েছে। সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহে আলম জানান, কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) রীমা আক্তার নিশ্চিত করেছেন যে, লালমোহনে দায়িত্বে থাকাকালীন সাবেক পল্লী জীবিকায়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমিতি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

















