টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ছয়টি নদীর অন্তত নয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বানের জলে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় তলিয়ে গেছে সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আউশ ফসলের মাঠ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগজুড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সুরমা-কুশিয়ারাসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামে টিলা ধসে ময়না মিয়া নামের এক ব্যক্তির বসতঘরের বেশ কিছু অংশ ভেঙে গেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। অন্যদিকে হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, হাওরগুলো প্রায় পূর্ণ থাকায় পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামসহ অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, পুকুর ও ফিশারি। এছাড়া আদমপুর ইউনিয়নের আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকাটির একটি মাধ্যমিক ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাউবোর তথ্যমতে, মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির প্রভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানির স্তর বাড়ছে। সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানিয়েছেন, সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশের মতে, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিলেও উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকায় দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

















