রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। তিনি জানান, প্রকল্পের কারিগরি জটিলতা দ্রুত নিরসনে বর্তমানে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার বিকেলে গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলেকজান্ডার খোজিন এ সময় ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মস্কোতে আয়োজিতব্য এই বিজনেস ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, সেখানে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ভিত্তিতে বিটুবি সেশনসহ বিভিন্ন আলোচনার আয়োজন করা হবে।
বাণিজ্য প্রসারের বিষয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য এবং সিরামিকের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়টি রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। এছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা থাকায় সেদিকেও মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।
কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

















