কুমিল্লার আলোচিত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মন্ত্রী বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ হিসাবমতে, আগে তিনজন এবং আজ আরও একজনকে মিলিয়ে মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফেরেনি। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের বয়স যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছরের বড়ও রয়েছে এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আইফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ এখন আইনানুগ কার্যক্রম ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পুলিশ চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।

















