প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪১
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে কিশোর ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছে। এই সূত্র ধরেই তুহিনকে আটক করা হয় এবং পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করেছে যে, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুলও জড়িত ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে ছিনতাই করা আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত অপ্রতিম কুবি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এবং পরে বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তার দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি তার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার চান। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে সে হাসিমুখে পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল।’ তিনি আরও বলেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সি নিষ্পাপ সন্তানের এভাবে প্রাণ দেওয়াটা তার মন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি ঘাতকদের কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

















