জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন, রেলপথ ও সেতু বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
মালিকদের দাবি অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চের ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে বর্তমান ২ টাকা ৯৫ পয়সা ভাড়ার পরিবর্তে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ২ টাকা ৫২ পয়সার জায়গায় ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বর্ধিত ডিজেলের দাম বাতিলের দাবি তুলেছেন তারা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি। নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চগুলো মূলত ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
লঞ্চ মালিকরা আরও জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিএ ইতিমধ্যে বিভিন্ন ফি ও চার্জ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ, বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ এবং রুট পারমিট আবেদন ফরমের ফি ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নৌযানের বিশেষ অনুমতি ফি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল চার্জ এবং মালিকানা বা নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন ফি ধার্য করা হয়েছে।
এছাড়া লঞ্চ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রঙ ও বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিং খরচেও ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি ঘটেছে বলে মালিকপক্ষ দাবি করেছে।
















