কিশোরগঞ্জের ৬টি উপজেলা হাওর অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের জনজীবন ও অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বাজিতপুর উপজেলার আছানপুর, শিবপুর, বয়ালী, মাইজচর ইউনিয়নের বাহেরবালী, আয়নারগোপ, মাইজচর, পুরাকান্দা এবং বলিয়ার্দী ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামগুলো বর্তমানে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এসব এলাকার নদীপাড়ের বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। গত ৩০ বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবার নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে এই নিম্ন আয়ের মানুষ ও জেলে সম্প্রদায় তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বিভাগীয় শহরে রিকশা বা সিএনজি চালক এবং শ্রমিকের কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ও সিংপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নির্মিত প্রতিরক্ষা দেয়ালগুলোও ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে কুলিয়ারচর উপজেলার একাধিক গ্রামও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে পৌরসদরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। পৌর শহরের রাবারকান্দি থেকে শাহপুর পর্যন্ত সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রাবারকান্দি-হাসপাতাল সড়কের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়; সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এই সমস্যাগুলোর সমাধানে তেমন কোনো নজর দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
















