প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৪৩। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সংবাদমাধ্যম মাকতুব মিডিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্রের করা অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় জ্যেষ্ঠ মুসলিম আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের বৈঠক ও সরকারি দায়িত্ব থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখা হয়েছিল।
১৯ সেপ্টেম্বর বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। এতে কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক বা সম্পাদকের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ এই মামলাটি মাকতুবের এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত দুটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দায়ের করেছে। পুলিশের দাবি, এই পোস্টগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এক্স কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে এমনটিই জানিয়েছে।
এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, প্রকাশিত পোস্টগুলোতে আপত্তিকর বিষয়বস্তু রয়েছে যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরির মতো অপরাধের শামিল হতে পারে। তবে এগুলো পুলিশের অভিযোগ মাত্র, যা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এদিকে, মাকতুব মিডিয়া প্রশ্ন তুলেছে যে, পুলিশ ২০২৬ সালের ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের অ্যাকাউন্ট খোলা, লগইন ও ব্যবহৃত ডিভাইসের তথ্য চেয়েছে, যা এফআইআর দায়েরের আগের সময়ের ঘটনা।
একই বিষয়ে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি গ্রাফিকের ক্যারোসেল পোস্ট ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতে সরিয়ে দিয়েছে মেটা। আইটি বিধিমালার আওতায় আইনি নোটিশের পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মহুয়া মৈত্র ১ সেপ্টেম্বর প্রথম অভিযোগ করেছিলেন যে, অমিত শাহের জুলাই ও আগস্টের সফরে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে মহুয়া মৈত্র জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং কমিশন ২১ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন তলব করেছে। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। এর আগে একই অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধেও একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি বা প্রমাণিত হয়নি।

















