আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পূজার প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা অন্তত এক হাজার বেড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি থাকবে এবং পূজা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, তবে কোথাও ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রতিমা ভাঙচুরের কোনো প্রকৃত ঘটনা পাওয়া যায়নি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন তথ্যগুলো গুজব হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ছাড় দিচ্ছে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ বাহিনীর কোনো ব্যর্থতা নেই বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীর পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইন প্রয়োগ করা হবে। বিএনপিকে ঢালাওভাবে চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢালাও অভিযোগের বিষয়ে জনগণই বিচার করবে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা দিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যায় না।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানো ও অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। তবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পূজার আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ কাউকে যেন অহেতুক হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা না হয়। এছাড়া দেশের কয়েকটি স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

















