দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময়সীমা ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগে পর্যটকরা ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ পেতেন, কিন্তু এবার তা ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এছাড়া পর্যটকের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে; এখন থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি পাবেন, যা আগে গড়ে ২ হাজার ছিল।
পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ফি’ প্রদান করতে হবে, যা পরিবেশ অধিদপ্তরের ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী কার্যকর করা হবে। নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকেই যথাযথ অনুমতি নিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ যাতায়াত করবে। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আগের মতোই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বা ট্রাভেল পাস (QR কোডযুক্ত) বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে না, কেবল ডিসেম্বর থেকে রাত্রিযাপনের অনুমতি মিলবে। এছাড়া দ্বীপে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমুদ্র সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ করা এবং যান্ত্রিক মোটরযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এই দ্বীপে পর্যটকদের গমনাগমনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বজায় রাখা হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে অন্যান্য সিদ্ধান্ত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ (২০২৫) সালের ২২ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার সব শর্ত বহাল থাকবে। তবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখা জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের এই চিঠিটি এখনো তাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা গড়ে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি হবে না।

















