শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ছুটির বিষয়টি অনুমোদনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যখন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, তখন এসব বিষয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে কোন মাসে কত দিন টানা ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি জাতীয় ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসসহ সব খাতের জন্যই এই ছুটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ ছুটির দিনগুলোতে সব ধরণের অফিস বন্ধ থাকবে। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় এ রকম ছুটি আছে ১৪ দিন।
তবে এই ছুটির আওতা থেকে জরুরি পরিষেবাগুলো বাইরে থাকবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা সেবা, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিবহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন এবং জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের কার্যক্রম নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রজ্ঞাপন জারির পর পৃথক নির্দেশনা দেবেন।
ছুটির হিসাব অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত আছে। এখন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি যোগ হওয়ায় ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন ছুটি পাওয়া যাবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ছুটি সর্বজনীন এবং সবার জন্য প্রযোজ্য হয়, যা মূলত উৎসব পালনের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। অন্যদিকে নির্বাহী আদেশের ছুটি সাধারণত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য হলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিসও তা অনুসরণ করে। এছাড়া ঐচ্ছিক ছুটির বিষয়টিও বিদ্যমান, যেখানে একজন কর্মচারী বছরে নিজ ধর্মের ধর্মীয় পর্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন দিন ছুটি ভোগ করতে পারেন। তবে এজন্য কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয় এবং তা বার্ষিক ছুটির পঞ্জিতে উল্লেখ থাকে।

















