ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানকে এমন মাত্রার মার্কিন হামলার মুখোমুখি হতে হবে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এমন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন যে যদি তার ওপর কোনো হামলা হয়, তবে ইরানকে এমন ভয়াবহ বোমাবর্ষণের শিকার হতে হবে যা তাদের জন্য নজিরবিহীন হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে প্রাথমিক শান্তি চুক্তির ‘সমঝোতা স্মারক’ লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুক্রবার পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া না গেলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল ট্রাম্পকে ইরানের নতুন একটি হত্যাচক্রান্তের বিষয়ে সতর্ক করেছে বলে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে ট্রাম্প বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, ইসরায়েল এ বিষয়ে নতুন কিছু খুঁজে পায়নি এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের তালিকায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল হয়তো ট্রাম্পকে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলার চেষ্টা করছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বুধবার ট্রাম্পের সফর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। কাতারি উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ন্যাটো সম্মেলন থেকে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ফিরে আসতে হয়। এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জুরি আসিফ মার্চেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে, যার বিরুদ্ধে আইআরজিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগ ছিল।
বৃহস্পতিবার ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে শোকাহত জনতার প্রদর্শিত ব্যানারে ট্রাম্পের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি কার্যত আর কার্যকর নেই। তিনি ইরানকে ‘একটি ক্যানসার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প জানান, ইরান আলোচনার আগ্রহ দেখালে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতি যে শেষ হয়ে গেছে তা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উত্তেজনা আরও বাড়ে, কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়।

















