ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল তেহরানে অবস্থান করছে এবং তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন করা এবং ওয়াশিংটনের সাথে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।
তবে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে ইরান। বিশেষ করে পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় এর আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তেহরান সন্দিহান। সম্প্রতি ইরানের পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলায় বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ইরানি নাগরিক হতাহত হন। ওই ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পূর্বের সমঝোতা স্মারক বাতিলের ঘোষণা দেন, যা তেহরানের এই অনাস্থার অন্যতম কারণ।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাম্প্রতিক এই সংঘাতের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না। উল্টো দেশটি এখন যেকোনো ধরনের ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। কোনো জবরদস্তিমূলক কূটনীতির কাছে মাথা নত না করার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য ইরান বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত ১ নম্বর ধারা, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় ইরানের সার্বভৌম অধিকার সংক্রান্ত ৫ নম্বর ধারা এবং ইরানের তেল রপ্তানির অধিকার নিশ্চিত করার ১০ নম্বর ধারা।

















