ভোলার দৌলতখান উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। বছরের পর বছর এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ওপর ভর করেই চলছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে একদিকে যেমন শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পাঠদান কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শূন্য থাকা ৭৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে এবং ৫২ জন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা। উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৫৪টি পদ খালি রয়েছে, যদিও সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন সহকারী শিক্ষক শূন্য পদে যোগদান করেছেন। এছাড়া ১০৬টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরী পদে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৩ জন।
দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা মধ্য হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমান আজাদ জানান, নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই চিত্র দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল আসমা জানান, প্রধান শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও একই। ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. জাহিদ উদ্দিন জানান, আইনি জটিলতার কারণে এতদিন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

















