নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে টানা তিন দিন ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও জোট শরিকদের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনের প্রথম দিন নির্বাচন কমিশন অভিযান ও আকাশবাণী ভবনে অবস্থান, দ্বিতীয় দিন যন্তর মন্তরের পথে গ্রেপ্তার বরণ এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে কনট প্লেসে মধ্যাহ্নভোজের পর বিরোধী নেতারা বাসে করে রাজঘাটে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এদিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জোট নেতাদের নিয়ে কনট প্লেসের ‘মোয়েটস’ রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন। আগের দুই দিনের মতো পুলিশি বাধা ছাড়াই নেতারা বাসে চড়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজঘাটে পৌঁছান। সেখানে গান্ধীজির সমাধির সামনে বসে নেতারা দেশের স্বার্থে ও গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রায় ৩০০ সদস্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে চেয়েও সরকারি বাধার মুখে পড়েছেন। তিনি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার ও মোহন ভাগবতের কঠোর সমালোচনা করে তাঁদের কৃতকর্মের ফল পাওয়ার কথা বলেন। এছাড়া ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট।
এদিকে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ১০ অক্টোবর তাদের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে এক বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগ দেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও অভিনেতা প্রকাশ রাজ। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতারাও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পাঁচ হাজার পুলিশ মোতায়েন ছিল। শনিবার সিজেপির আন্দোলন মোকাবিলায় ২০ হাজার পুলিশ ও ২৩ হাজার আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লুটেন্স দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি বডি ক্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা বাড়িয়ে তাঁকে জেড প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সব সফর বাতিল করা হয়েছে।

















