রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর আনন্দ মিছিল করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত ৭ জুলাই এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার আনন্দ মিছিল বের করা হয়। উল্লেখ্য, সাত মাস আগে শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বছরের ২৮ অক্টোবর ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে ছাত্রদলের কমিটি ও মিছিলের ঘটনায় প্রশাসনের অবস্থানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে এবং শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রুমানুল ইসলাম রাজ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি প্রশাসনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আরেক শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রশাসনের ভূমিকা নীরব। তিনি বলেন, শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। শুরু থেকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, তাদের মতে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসন সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে সুস্থ ধারার রাজনীতির পথ রুদ্ধ করেছে। তার দাবি, ছাত্ররাজনীতি চালু থাকলে ক্যাম্পাসে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, ১২২তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র উপদেষ্টাকে আহ্বায়ক করে তিন হলের প্রভোস্টকে সদস্য এবং মো. মাসুদ রানাকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভার আগেই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালু থাকবে নাকি বন্ধ হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

















