সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০৯ জন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাবে এটি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই এই হামলা চালানো হয় এবং সৌদির হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও কোনো সংকেত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিমানবন্দরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আহতদের মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন। বিমানবন্দরের ৪০৩ নম্বর গেটে থাকা এক যাত্রী জানান, ৪০১ নম্বর গেটে হামলা হতে দেখেছেন তিনি এবং সেখানে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করছিল। হামলার পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকদের তলব করতে হয়েছে।
নিহত ১২ জনের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সব ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৫৫টি আগমনী ও ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ২২২টি ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটেছে।
এদিকে রিয়াদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এছাড়া রোববার ভোরের দিকে জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের আগের দুটি হামলায় চারজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে কিং খালেদ বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

















