সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। গত মঙ্গলবার রাতে চালানো এই হামলায় আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনের কয়েকটি তলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, তারা আরামকোর ধাহরান স্থাপনা ছাড়াও সৌদি আরবের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। দুই জাহাজের ৪৩ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আরামকোর ধাহরান কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকে স্থল ও সমুদ্রের তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং রপ্তানি টার্মিনালের বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হয়। হামলার পরও কোম্পানিটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে, তবে নিরাপত্তার খাতিরে কিছু কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ভবনে সীমিত আকারে আগুন ধরেছিল, তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগুন কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ওপরের তিনটি তলা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৫টি বাড়ি। হামলার আগে ইয়েমেনের সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট রাজধানী সানার উপকণ্ঠে অবস্থিত পেট্রোলিয়াম কোম্পানির একটি জ্বালানি ডিপোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছিল। হুতিরা আগেই হুমকি দিয়েছিল যে, সানায় হামলার ‘কঠোর ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে এবং ধাহরানের আরামকো সদর দপ্তর ও রিয়াদের তেল শোধনাগার তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
এই হামলার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বা ৯১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো বলেন, হরমুজে জাহাজে হামলা এবং সৌদি-হুতি সংঘাত তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গত শনিবারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন একই বিমানবন্দরে আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করলেও, সাম্প্রতিক সংঘাত ও আকাশপথে হামলার ঢেউ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্পের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। সৌদি আরব নিজেকে বিনিয়োগ ও পর্যটনের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
















