অপরাধ

প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সাত আসামি রিমান্ডে, এক আসামির মুখে ‘শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী’

প্রতিবেদক
ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা স্থগিত হলো ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত হলো ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন শেখ হাসিনার তিন সংসদ অবৈধ ঘোষণা করেনি বিএনপি: নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার তিন সংসদ অবৈধ ঘোষণা করেনি বিএনপি: নাহিদ ইসলাম মনোনয়ন পেতে বিএনপি নেতাদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন আসিফ মাহমুদ: রাশেদ মনোনয়ন পেতে বিএনপি নেতাদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন আসিফ মাহমুদ: রাশেদ শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ
সব খবর

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শুনানিকালে এক আসামি বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তাঁর শালা-সম্বন্ধীরা পরীক্ষার্থী ছিলেন।

রিমান্ডে যাওয়া সাত আসামি হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এস এম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)। এদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক, মো. জাহাঙ্গীর ও এস এম এমদাদুল ইসলাম কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক, রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। মফিজুল ও হাসিনুর প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্য।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। আসল প্রশ্নের সঙ্গে মিল থাকায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে বেরিয়ে আসে, চক্রের সদস্যরা ১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি সনদ, ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা ও ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়।

আজ দুপুরে সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাঁদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। রিমান্ডে নেওয়া না হলে জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুনানিতে আসামিদের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাজ করে আসছে। তারা সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড, ব্যাংকের চেক, প্রশ্ন লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামি এস এম এমদাদুল রহমানের পক্ষে শুনানি করেন তাঁর আইনজীবী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এই আসামি এজাহারভুক্ত নন এবং তাঁর কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁকে হয়রানি করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনজীবী খোরশেদ আলম আরও বলেন, তাঁর মক্কেলের দায় কী, কী আলামত পাওয়া গেছে, তা মামলায় উল্লেখ নেই। রিমান্ড আবেদনেও তাঁর ব্যাপারে বিশেষ কিছু লেখা হয়নি। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘শুধু রিমান্ড আবেদন করলেই রিমান্ড হয়ে যায় না। আদালত এগুলো বুঝে ভালোমতো।’

এ সময় আসামি এমদাদুল রহমান কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ঠিক ঠিক’। তখন পাশ থেকে আসামি আসাদুল তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। এমদাদুল হেসে দেন।

আইনজীবী খোরশেদ আলম তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘যা না তা আবেদন করেন আপনারা। আপনাদের কোনো কাজই হয় না। রিমান্ডে নেওয়ার মতো কী পাইছেন এই আসামি সম্পর্কে বলেন? কেন রিমান্ড আবেদন করলেন এই আসামির? গ্রেপ্তার করার মতো কী পাওয়া গেছে?’

তখন বিচারক আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি মেরিটে কথা বলেন। অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবেন না।’ আইনজীবী বলেন, ‘জি, মাননীয় আদালত আমি মেরিটেই কথা বলছি।’ বিচারক তখন তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, এই আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তিনি এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন।’

আইনজীবী খোরশেদ আলম আবারও বলেন, ‘কোনো কিছুই নেই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার মতো। আমি জামিনের আবেদন জানাচ্ছি।’ বিচারক বলেন, ‘আপনার শুনানি শেষ। সব শুনানি শেষে আদেশ হবে।’

এরপর আসামি আসাদুল ইসলামের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আলমগীর হোসেন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, আসাদুল নির্দোষ এবং এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রিমান্ড আবেদনেও তাঁর ব্যাপারে কিছু নেই।

বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আসাদুলের বিষয়ে কিছু পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, পাওয়া গেছে।’

আদালতে দাখিল করা নথি দেখে বিচারক আসাদুলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে ও ফোনে অনেকগুলো স্ট্যাম্প, চেক পাওয়া গেছে। চেকের ৪৫টি পাতা পাওয়া গেছে। এগুলো আপনার কাছে কেন, আপনি এগুলো দিয়ে কী করেন?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাকরি করি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।’

বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এতগুলো চেক, স্ট্যাম্প কেন আপনার কাছে?’ উত্তরে এই আসামি বলেন, ‘আমার একটা ছোট ব্যবসা আছে।’ বিচারক বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে কি আপনি ব্যবসা করতে পারেন, আইনে আছে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ব্যবসা।’ বিচারক বলেন, ‘আপনি কি সেটা করতে পারেন, আপনার কাছে এতগুলো ডকুমেন্টস, প্রবেশপত্র কেন, কী করতেন এগুলো দিয়ে?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল।’ বিচারক বলেন, ‘কিন্তু আপনার ফোনে কেন? আর এতগুলো! কী করতেন এগুলো?’

আরেকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম করে আসছেন। তারা আরও ১১টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিল।

এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, তাঁরা সাতজন প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের কার্যক্রম বিস্তৃত।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা স্থগিত হলো ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত হলো ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন শেখ হাসিনার তিন সংসদ অবৈধ ঘোষণা করেনি বিএনপি: নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার তিন সংসদ অবৈধ ঘোষণা করেনি বিএনপি: নাহিদ ইসলাম মনোনয়ন পেতে বিএনপি নেতাদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন আসিফ মাহমুদ: রাশেদ মনোনয়ন পেতে বিএনপি নেতাদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন আসিফ মাহমুদ: রাশেদ শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ
সব খবর