দুপুরের ভরপেট ভাত কিংবা রাতের পছন্দের কোনো খাবার শেষ হতে না হতেই শরীর ছেড়ে দেওয়া, চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা এবং সব কাজ ফেলে একটু বিছানায় গড়াগড়ি খাওয়ার ইচ্ছা হওয়া আমাদের অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অলস অনুভূতিটিকে বলা হয় ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সমনোলেন্স’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘ফুড কোমা’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে ভাত একটি শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার, যা শরীরে এক বিশেষ হরমোনের শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শুরু করে, ফলে শরীর শিথিল হয়ে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর এই যে ঝিমুনি আসে, তা কেবল বেশি খাওয়ার কারণে হয় না। শর্করা ইনসুলিন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে, যা রক্তপ্রবাহ থেকে ট্রিপটোফ্যান ছাড়া অন্যান্য অ্যামাইনো অ্যাসিড সরিয়ে নিতে সাহায্য করে। প্রতিযোগিতার অভাবে ট্রিপটোফ্যান সহজে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে এবং সেখানে এটি সেরোটোনিন ও পরে মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থগুলোই ঘুম নিয়ন্ত্রণের কাজ করে, ফলে ইচ্ছাশক্তির চেয়ে জৈব-রসায়নের প্রভাবেই মূলত এই তন্দ্রাভাব তৈরি হয়।
ভাত ও ঘুমের প্রভাব নিয়ে ২০২০ সালে ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ৬০ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা এই গবেষণায় একটি দলকে নিয়মিত ভাত খাওয়ানো হয় এবং অন্য দলের ওপর নজর রাখা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভাত গ্রহণকারীদের ঘুমের মানের স্কোরে উন্নতি ঘটেছে। এছাড়া রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা ভাত খেয়েছেন, তাদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা অন্যদের তুলনায় কম। যেহেতু অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস পাওয়া শরীরের বিশ্রাম ও সেরে ওঠার ক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই ভাত-কেন্দ্রিক খাদ্যাভ্যাস ভালো ঘুমের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মূলত খাওয়ার পর হালকা ঝিমুনি আসা শরীরের একটি সুস্থ লক্ষণ। তবে যদি এই ঘুমের তীব্রতা অস্বাভাবিক হয় এবং তা আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বা থাইরয়েডের কোনো সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

















