অন্যান্য

সম্পদ উপার্জনে ইসলামি নির্দেশনা: হালাল পথে আয় ও তাওয়াক্কুল

প্রতিবেদক
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা দ্য সিলভা চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা দ্য সিলভা ইউরোপের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ জাপান সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডলার আয়ে ব্যবসায়ীদের ১৫% নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সাত আসামি রিমান্ডে, এক আসামির মুখে ‘শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী’ প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সাত আসামি রিমান্ডে, এক আসামির মুখে ‘শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী’ ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা
সব খবর

অনেকেই উপার্জনকে দ্বীনদারী বা তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) পরিপন্থী মনে করেন, তবে ইসলামে এই ধারণা সবক্ষেত্রে শুদ্ধ নয়। কোরআন-হাদিসের কোথাও এমন মানসিকতার পৃথক কোনো মূল্যায়ন নেই; বরং ইসলাম মানুষকে রিজিকের প্রয়োজনে উপার্জনে উৎসাহিত করেছে এবং রিজিক অন্বেষণকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘সালাত আদায় হলে তোমরা পৃথিবীর দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো।’ (সুরা জুমা: ১০)। মৌলিকভাবে সুস্থ-সবল মানুষের জন্য হালাল উপার্জন একটি আবশ্যকীয় দায়িত্ব, যা ফিকহের পরিভাষায় ওয়াজিব। হাদিসে এসেছে, ‘হালাল উপার্জন অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২৯১)।

উপার্জন ও শ্রম নবীদের সুন্নত। নিজ উপার্জনে স্বাবলম্বী হওয়া নবীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হজরত আদম (আ.) চাষাবাদ করে, নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করে, ইদরিস (আ.) সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন। হজরত দাউদ (আ.) লোহা গলিয়ে বর্ম তৈরি করে এবং মুসা (আ.) বকরি চরানোর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। (ফাতহুল বারি: ৪/৩০৬)। আরও অনেক নবী-রাসুলের নিজ হাতে উপার্জনের কথা হাদিসে পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) নিজেও বকরি চরিয়েছেন এবং যুবক বয়সে হজরত খাদিজা (রা.)-এর পক্ষ হয়ে সিরিয়ায় ব্যবসায়িক সফরে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইসলামের প্রথম যুগে তিনি সায়িব ইবনে আবু সায়িবের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করেছেন। সায়িব (রা.) বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি আমার ব্যবসায় অংশীদার ছিলেন। আপনি কতই না উত্তম অংশীদার। আপনি ধোঁকা দিতেন না, ঝগড়া-বিবাদ করতেন না।’ (সুনানে আবি দাউদ: ৫/১৭০)।

অতীতের কিছু সুফি মনে করতেন, যারা দ্বীনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, তাদের দুনিয়ার উপার্জনের পেছনে ছোটা উচিত নয়। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) তার ‘কিতাবুল কাসব’ গ্রন্থে এমন ধারণা পোষণকারীদের মূর্খ বলেছেন। তিনি এর জবাবে বলেন, নবীরাও জীবিকা উপার্জনে শ্রম দিয়েছেন; কেউ বকরি চরিয়েছেন, কেউ চাষাবাদ করেছেন, কেউ ব্যবসা করেছেন। সেখানে সাধারণ মানুষের এমন ধারণা করার সুযোগ কোথায়? তিনি আরও বলেন, এমন ধারণা পোষণকারীরা নিজেরা উপার্জন না করলেও অন্যের উপার্জিত সম্পদ লাভের আশায় থাকে। হজরত ওমর (রা.) একবার ইবাদতরত এক দলকে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলকারী হিসেবে পরিচয় দিলে তিনি রেগে বলেন, এরা তাওয়াক্কুলকারী নয়, বরং মানুষের সম্পদ ভক্ষণকারী। তিনি বলেন, প্রকৃত তাওয়াক্কুলকারী সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে জমিনে বীজ বপণ করে, এরপর আল্লাহর ওপর ভরসা করে। তিনি ইবাদতকারীদের বলেন, ‘তোমরা তোমাদের মাথা উঁচু করো এবং নিজেরা উপার্জন করে নিজেদের রিজিকের ব্যবস্থা করো।’ (কিতাবুল কাসব: ৮৭-৮৮)। বর্তমানেও অনেকে সম্পদ উপার্জনে ব্রত হওয়াকে দুনিয়াদারি বলে বাঁকা চোখে দেখেন, যা বৈধ নয়। ফকিহগণ বলেছেন, ‘কার্যত কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্যই শুধু মানুষের কাছে হাত পাতা বৈধ; অন্য কারও জন্য নয়।’ (কিতাবুল কাসব: ১৯০)।

কোরআন-হাদিসে যেকোনো হালাল পেশাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং হারাম উপার্জন থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কোন পেশা উত্তম, তা নিয়ে ইসলামি ফিকহে মতভেদ রয়েছে। কেউ নবীদের অনুকরণে চাষাবাদকে উত্তম বলেছেন, আবার কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যকে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে উত্তম ও পবিত্র রিজিক হলো, নিজ হাতে উপার্জিত রিজিক। আমার ভাই দাউদ (আ.) নিজ হাতের উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (বোখারি: ৪/৩০৩)। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.)-কে উত্তম পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘হালাল ব্যবসা ও ব্যক্তির নিজের হাতে উপার্জিত রোজগার।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৫৮৭৪)। তাই কল্যাণকর যেকোনো হালাল পেশা গ্রহণ করা যাবে, চাই তা ব্যবসা হোক বা অন্য কোনো পেশা। শরিয়াসম্মত উপায়ে যেকোনো পেশায় আত্মনিয়োগ করাই সুন্নত।

হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন কোরাইশদের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী। হজরত ওসমান (রা.) ও তালহা (রা.)-সহ বড় বড় সাহাবায়ে কেরামও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। (তাবাকাত ইবনে সাদ: ৩/১৮৬)। হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘কিছু কিছু পেশাতে যদিও সম্মানের কমতি রয়েছে, তবু তা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম।’ (ইবনু আবিদ দুনিয়া: ৭/৪৫৫)। সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনের প্রয়োজনে স্বচ্ছলতা ও স্বাবলম্বী হওয়াকে পছন্দ করতেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৫/৩৫৫)। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলতেন, ‘তোমরা ব্যবসা করো না কেনো? হজরত আবু বকর (রা.) তো ব্যবসায়ী ছিলেন।’ (ইবনু আবিদ দুনিয়া: ৭/৪৫১)। সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘সম্পদ উপার্জনকে একসময় অপছন্দ করা হতো। কিন্তু কালের পরিবর্তনে সম্পদ হলো এখন মোমিনের অস্ত্রস্বরূপ।’ (ইসলাহুল মাল: ৮৯)। তাই দ্বীনের প্রয়োজনে স্বাবলম্বী হওয়া দোষের নয়, বরং ক্ষেত্র বিশেষ এটি দ্বীনের জন্য সহায়ক। তবে সম্পদ উপার্জন অবশ্যই হালাল পন্থায় হতে হবে, যা শরিয়তের একটি মৌলিক ফরজ বিধান।

আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে হালাল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা: ১৬৮)। সমাজে হালাল প্রতিষ্ঠিত হলে এর সুফল গোটা সমাজ ভোগ করবে।

হালাল উপার্জন সকলের জন্য আবশ্যক এবং এটি একটি ফরজ বিধান। হালাল থেকে বিমুখ প্রদর্শন করলে আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি অবধারিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদেরকে যা দান করেছি, তা থেকে ভালো ও হালাল বস্তু আহার করো এবং এ ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন কোরো না। করলে তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত। আর যার ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত, সে তো ধ্বংস হয়ে যায়।’ (সুরা তহা: ৮১)।

হারাম উপার্জনের একটি বড় উৎস হলো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করা, যেমন চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি। ইসলাম উপার্জনের সকল অন্যায় ও অবৈধ পন্থা নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ কোরো না।’ (সুরা নিসা: ২৯)।

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা দ্য সিলভা চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা দ্য সিলভা ইউরোপের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ জাপান সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডলার আয়ে ব্যবসায়ীদের ১৫% নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সাত আসামি রিমান্ডে, এক আসামির মুখে ‘শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী’ প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সাত আসামি রিমান্ডে, এক আসামির মুখে ‘শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী’ ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে ওবামার তীব্র সমালোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় লাল কার্ড দেখে নেইমারের হুমকি: মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা
সব খবর