চলমান ফিফা বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা। বসনিয়ার এক খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে তার মাঠের বাইরে থাকার কথা থাকলেও, ফিফার এক নির্দেশনায় সেই নিয়ম বদলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফিফা জানায়, লাল কার্ড পেলেও বালোগানের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে কোনো বাধা নেই। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনি খেলতে পেরেছিলেন।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফিফা মূলত তাদের ২৭ নম্বর ধারাটি ব্যবহার করেছে। এই ধারায় বলা আছে, কমিটির সবাই একমত হলে যে কোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা সম্ভব। সেই নিয়ম অনুযায়ী বালোগানের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে ফিফা সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি পুনরায় একই ধরনের আচরণ বা লাল কার্ড দেখেন, তবে তাকে আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এটিই প্রথম নয়, এর আগেও একইভাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করেছিল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডারা ও’শিয়ার পিঠে কনুই মারার দায়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন ৪০ বছর বয়সি রোনালদো। সেই ম্যাচে পর্তুগাল ২-০ গোলে হেরেছিল এবং রোনালদোকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
নিষেধাজ্ঞার কারণে রোনালদো ১৬ নভেম্বর আর্মেনিয়ার বিপক্ষে বাছাই পর্বের ম্যাচটি খেলতে পারেননি। কিন্তু বাকি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত থাকায় তিনি এবারের বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ মিস করেননি। ফিফা তখন বিবৃতিতে জানিয়েছিল, এক বছরের মধ্যে একই ধরনের ভুল করলে রোনালদোর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যাবে এবং বাকি দুই ম্যাচের শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।

















