যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে না পারা এবং এই সময়ের মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সোমবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছালে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের প্রবেশের তথ্য নিবন্ধিত হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা দেশটিতে প্রবেশের বৈধ অনুমতি পাবেন।
অনুষ্ঠানে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তিনি বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, যেখানে তিন লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার কঠোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশগামী কর্মীদের যাত্রাপ্রক্রিয়া সহজ করা ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। এছাড়া অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালুর পাশাপাশি এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি কর্মীদের গন্তব্য দেশের আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে প্রচারণার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। তিনি দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বোয়েসেল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো এবং বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

















