রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ বন্ধ না করায় বুধবার শিক্ষার্থীরা মেলার মাঠে গিয়ে সেখানে নির্মিত প্রবেশ গেট ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে, যখন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন এবং মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবারও তারা একই কর্মসূচি পালন করেছিলেন এবং কর্তৃপক্ষকে মেলা আয়োজনের কারণ জিজ্ঞাসা করার পাশাপাশি কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ উপেক্ষা করায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুরের পথ বেছে নেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, তারা মেলা সরিয়ে নেওয়ার জন্য গতকালই কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না দেখায় তারা এই কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তবে মেলার আয়োজক মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছি। তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নন দাবি করে দ্রুত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন যে, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনা আমলাতন্ত্রের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, এটি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ পরিবেশ ধ্বংস করবে এবং ঢাকাকে বসবাসের আরও অযোগ্য করে তুলবে। সরকারের কাছে তারা এই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এর আগেও মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমেছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাঠটি ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে কোনো মেলা আয়োজন করতে হলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

















