বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকালে দেশটির সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি এবং একটি অভিপ্রায়পত্র সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের তৃতীয় দিন বুধবার টোকিওতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য একটি অনুদান চুক্তি। এছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অন্যান্য সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি চুক্তি। এছাড়া, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (ইএসডিপি) বাস্তবায়ন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি অভিপ্রায়পত্র (এলওআই) সই হয়েছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন যে, দুই দেশের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি রয়েছে এবং এর মধ্যে ৩ থেকে ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার সরকারি সফরে জাপান যান। সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। এই সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

















