ক্রিকেটের বরপুত্র ও ভারতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি মাঠের বাইরের জীবনেও ছিলেন সমান আলোচিত। তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রেমকাহিনি যেন কোনো ব্লকবাস্টার বলিউড সিনেমার চিত্রনাট্য। বেহালার বীরেন রায় রোডে সৌরভ ও ডোনার বাড়ি ছিল পাশাপাশি, মাঝখানে কেবল একটি প্রাচীর। তাদের ঠাকুরদাদারা ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ব্যবসায় ভাঙন ধরে। এর ফলে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতার সৃষ্টি হয়, এমনকি বড়দের মধ্যে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
পারিবারিক এই দেয়াল সত্ত্বেও কিশোর বয়সেই সৌরভ ও ডোনার মধ্যে অলিখিত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনুরাগ বসুর একটি টকশোতে সৌরভ নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, ফুটবল খেলতে যাওয়ার সময় বা বন্ধুদের নিয়ে তিনি ডোনার স্কুলের আশপাশে চক্কর কাটতেন। অন্যদিকে ডোনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সৌরভের বাড়ির পাশে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় তার শাটলকক প্রায়শই ভুল করে রায় পরিবারের সীমানায় পড়ত। সেই শাটলকক ফেরত দেওয়ার অজুহাতেই চলত তাদের মিষ্টি চোখের ইশারা।
তাদের প্রথম ডেটের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল। ঢাকুরিয়া লেকের কাছের ‘ম্যান্ডারিন’ রেস্তোরাঁ ছিল তাদের পছন্দের জায়গা। ১৭ বছর বয়সী ডোনা ও ২৩ বছর বয়সী সৌরভের সেই প্রথম ডেটে সৌরভের ভোজনরসিক রূপ দেখে ডোনা অবাক হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট সেঞ্চুরির পর সৌরভ বুঝতে পারেন, ডোনাকে ছাড়া তার জীবন অসম্পূর্ণ। কিন্তু দুই পরিবারই বিয়ের বিষয়ে ছিল কঠোর অবস্থানে।
পারিবারিক বাধা ও পাপারাজ্জিদের চোখ এড়িয়ে ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তারা গোপনে আইনি বিয়ে বা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। বিয়ের পর দুজনেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং বিষয়টি গোপন রাখেন। তবে মহারাজের গোপন বিয়ের খবর বেশিদিন চাপা থাকেনি। কিছুদিনের মধ্যেই দুই পরিবারে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চরম অশান্তির সৃষ্টি হয়।

















