নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটির তথ্যমতে, প্রাথমিক স্তরের ৯৮ শতাংশের বেশি এবং মাধ্যমিক স্তরের ৭১ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গত দুই শিক্ষাবর্ষে বই সরবরাহে বিলম্ব হলেও এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে এনসিটিবি কর্মকর্তারা আশাবাদী।
এনসিটিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বই বাঁধাই ও প্রাক-সরবরাহ পরিদর্শন শেষে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ নভেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি ছাপা হয়েছে এবং ৬৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বই ছাপার অগ্রগতির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সামগ্রিক বই বিতরণে কোনো সংকট হবে না।
আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার বই রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ায় মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মাধ্যমিকের বই ছাপায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামের চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। এসব বইয়ের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এনসিটিবি এসব বই ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং এ বিষয়ে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের মধ্যেই অধিকাংশ বই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এনসিটিবি, যাতে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময়ই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া সম্ভব হয়।

















