সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহজুড়ে এই মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির প্রকোপ বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, এই ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর কিছুটা বিরতি থাকলেও ২০ বা ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আবার বাড়বে। এর আগে ড. আবুল কালাম মল্লিকের স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬২, সিলেটে ৯৮ ও নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজ করছে। বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোর জন্য জারি করা হয়েছে ১ নম্বর সতর্কবার্তা এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

















