ঢালিউডের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর আজ ৩০ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের নিজ ফ্ল্যাটে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই দীর্ঘ তিন দশকেও তাঁর মৃত্যুরহস্যের জট পুরোপুরি খোলেনি। পারিবারিক নাম শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন হলেও সালমান শাহ হিসেবেই তিনি কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা মাত্র চার বছরের অভিনয় জীবনে ঢাকাই চলচ্চিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবার একে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসলেও দীর্ঘদিন এটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে একে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। এরপর ২০০৩ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্তে এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালের প্রতিবেদনেও এটিকে অপমৃত্যু বলা হয়। তবে পরিবার এই প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে এবং ২০১৫ সালে মা নীলা চৌধুরী আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। ২০১৬ সালে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলে ২০২০ সালে তারা আবারও আত্মহত্যার প্রতিবেদন দেয়। অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালত রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে গত বছরের অক্টোবরে রমনা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কেবল ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। তবে আসামি ডনের আইনজীবীর দাবি, আগের সব প্রতিবেদনে আত্মহত্যা উঠে আসায় ডন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার অন্য এক আসামির জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যার বিষয়টি উঠে এসেছিল, যা এই মামলাকে স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডের দিকে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯ বার পিছিয়েছে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এই দীর্ঘ সময় ধরে বিচারের অপেক্ষায় আছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, প্রধান আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট। অবিলম্বে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত এগিয়ে যাবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই প্রত্যাশা।

















