ইউক্রেনের তীব্র ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই হামলায় দেশটির শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি লজিস্টিক গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৬২ জন আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মস্কো থেকে প্রায় ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তামবভ শহরের একটি গুদামে ড্রোন আঘাত হানলে সাতজন নৈশকালীন কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সেখানে আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইভজেনি পারভিশভ এই হামলাকে ওই অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও অমানবিক ড্রোন হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
একইভাবে মস্কো অঞ্চলের ইলেকট্রোস্টাল এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের দ্বিতীয় গুদামে হামলায় আরও একজন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশাল গুদাম ভবন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিভ জানান, ইলেকট্রোস্টালে আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, রাতভর ওই অঞ্চলে প্রায় ৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ একটি তেল ডিপোতে পড়লে সেখানেও আগুনের সৃষ্টি হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের মতো লজিস্টিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আজভ সাগর, কৃষ্ণ সাগর এবং রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াতেও একই অভিযানের অংশ হিসেবে হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের শহর ও বেসামরিক স্থাপনায় রাশিয়ার নিয়মিত হামলার জবাবেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে বলে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার ‘অ্যামাজন’ হিসেবে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম এই রাতটিকে রাশিয়া ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ‘ভয়াবহ রাত’ বলে বর্ণনা করেছেন। ২০২৬ সালের ফোর্বস রাশিয়ার তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে হামলাস্থলগুলোতে রাশিয়ার জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু, কারণ এসব খাতের অর্থ মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করছে।

















