বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের বহর সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সংস্থাটি ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন এই বিমানগুলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হবে বলে জানানো হয়েছে। কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এয়ারলাইনসটির ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্তমানে তাদের বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলো দিয়ে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। বহর বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক রুটেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং এবং মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাং উল্লেখযোগ্য।
ইউএস-বাংলার সাফল্যের কথা তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, নিরাপত্তা, সেবার মান ও পরিচালন দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং আইওএসএর সনদ অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে তারা চীনের বিভিন্ন গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও তারা বাস্তবায়ন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে রাজস্ব প্রদানের দিক থেকে ইউএস-বাংলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে দেশের বিমান সংস্থাগুলোর সম্মিলিত বাজার হিস্যা প্রায় ২৫ শতাংশ, যেখানে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর দখলে রয়েছে বাকি ৭৫ শতাংশ। দেশি এয়ারলাইনসগুলোর অংশগ্রহণ বাড়লে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ইউএস-বাংলার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

















