সাবেক সেনা কর্মকর্তা (বরখাস্ত) মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সকালে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা মালামালের জব্দ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন গত ৬ আগস্ট তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত বছরের ১৬ আগস্ট রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
দুদকের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন। তাঁর আটটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও সম্পদ বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এর আগে জিয়াউল আহসানের বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁর নামে থাকা ৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।.এবার জিয়াউল আহসানের বাগান

















