বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে থাকা সুপারিশ প্রদানের ক্ষমতা বাতিল করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সংশোধিত পরিপত্র জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিকের যুগ্মসচিব সাইয়েড এ জেড এম মোরশেদ আলী এই পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে এমপিওভুক্ত বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্নাতক (পাস) কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের পুরনো নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়কের মতো অশিক্ষক পদে নিয়োগের দায়িত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ন্যস্ত হলো।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নিয়োগপ্রতি কয়েক লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত বছর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় শিক্ষাবিদদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, প্রশাসনিক বাস্তবতায় ও রাজনৈতিক চাপে এই উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। বর্তমান সরকারের নতুন এই নির্দেশনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুনরায় রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিকের যুগ্মসচিব সাইয়েড এ জেড এম মোরশেদ আলী।
পরিপত্রে বলা হয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ও স্নাতক (পাস) কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা সংশোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

















