যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা এমন এক সময়ে কার্যকর হচ্ছে যখন পূর্বের অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যই এই নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে। তবে তেল, গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, কারণ অতীতেও এই ধারা আদালতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফল হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য যে ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক চালু করেছিল, তার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হচ্ছে এবং এরপরই নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্যগুলো এই নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে এবং সেখানে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান আছে, নতুন শুল্ক সেসব চুক্তির সীমা অতিক্রম করবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কানাডা, মেক্সিকোসহ বেশ কিছু দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে চীনসহ ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কহারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১০ বা ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই শুল্ক কেবল আগের শুল্কের বিকল্প নয়, বরং জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার একটি কৌশল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্য এবং ২৩২ ধারার আওতায় থাকা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্যগুলোও এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। গণশুনানির পর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থকেও অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

















