পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরুর আগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন দুপুরে ওই মসজিদে উপস্থিত হন। খুতবার আগে তিনি মাইক্রোফোনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি নিজেই ইমামতি করার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা আসার পরই মসজিদে উপস্থিত বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ পর্যন্ত মসজিদের ইমামের পেছনেই সবাই জুমার নামাজ আদায় করেন।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, দলীয় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই জামায়াতের এই সংসদ সদস্য এমন আচরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এমপি হুট করে ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে বক্তব্য দেন এবং জোরপূর্বক নামাজ পড়াতে উদ্যত হন। এ সময় প্রতিবাদ জানালে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি কর্মীরা উসকানিমূলক আচরণ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে।
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তিনি কোনো ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন বা জোর করে নামাজ পড়াতে যাননি। বরং স্থানীয়দের অনুরোধ ও আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন যে, খুতবার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তার এক কর্মীর দোকানে হামলা, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই মসজিদে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। মসজিদের ভেতরে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

















