ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে স্বেচ্ছায় আসতে হবে না, বরং সরকার তাকে ধরে নিয়ে আসতে চায়। তিনি আরও যোগ করেন, দেশে ফিরলে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না—এ নিয়ে কিছু মহলে যে জল্পনা-কল্পনা চলছে, তা মূলত ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এই বিষয়টি শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, তখন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন পলাতক এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার আপিল করার সুযোগ আর নেই। তাই এখন বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তিনি দেশে ফিরলে তার জন্য মৃত্যুদণ্ডই অপেক্ষা করছে।
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাঁধন ছাড়াও যারা বিদেশে যাচ্ছেন, তারা যে কেউ এমন হামলার শিকার হতে পারেন। তিনি বলেন, যখন এমন ঘটনা ঘটছে, তখন শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখাটা অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো বিষয়, যা ভারতের বোঝা উচিত।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে উদ্দেশ্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি আশা করেন সাংবাদিকরা হাইকমিশনারকে প্রশ্ন করবেন যে, ভারত সরকার এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ মনে করে কি না। তিনি বলেন, একদিকে মৌখিক আশ্বাসের পাশাপাশি কিছু সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে, আবার অন্যদিকে এমন কিছু করা হচ্ছে যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে সরকারের প্রতিবাদলিপির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং ভারত যে বাংলাদেশের সাথে যথাযথভাবে কাজ করতে চায়, তা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

















