১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের জন্মের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্টস এডওয়ার্ডস নামক দুই চিকিৎসকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফসল এই পদ্ধতি। পরবর্তীতে এই অনন্য অবদানের জন্য তারা চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। বর্তমানে আইভিএফ (IVF) চিকিৎসা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং এর প্রযুক্তি দিন দিন আরও আধুনিক হচ্ছে। লুইস ব্রাউনের জন্মের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মাঝে আজও এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা রয়ে গেছে। একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, লুইস ব্রাউন পরবর্তী জীবনে কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে সন্তান ধারণে সক্ষম হয়েছিলেন।
আইভিএফ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ তাপমাত্রা ও পুষ্টিসমৃদ্ধ মিডিয়া বা ইনকিউবেটরে ভ্রূণটির বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর ভ্রূণটি মাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, প্রাকৃতিকভাবে যে প্রক্রিয়াটি শরীরের ভেতরে হওয়ার কথা ছিল, তা ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন করা হয়। এরপর শিশুর বেড়ে ওঠা ও জন্মপ্রক্রিয়া সাধারণ শিশুদের মতোই স্বাভাবিক থাকে।
টেস্টটিউব বেবি নিয়ে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, এই শিশুরা দেখতে আলাদা হয়, এদের বুদ্ধিমত্তা সাধারণ শিশুদের চেয়ে ভিন্ন, এরা টেস্টটিউবের ভেতর বেড়ে ওঠে, অথবা দম্পতির অগোচরে অন্য কারো শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করা হয়। এমনকি অনেকে একে ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ বলেও ভুল ধারণা পোষণ করেন। বাস্তবে এই ধারণাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। টেস্টটিউব বেবিরা স্বাভাবিক নিয়মে মাতৃগর্ভে বড় হয় এবং জন্ম নেয়। দম্পতিরা যদি নিজেদের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করেন, তবে ইসলামি বিধানেও এতে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশেও বর্তমানে অনেক ইনফার্টলিটি সেন্টার স্বচ্ছতার সাথে এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে, যেখানে সফলতার হার প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রথম আইভিএফ বেবি হীরা-মণি-মুক্তা জন্ম নেয় ২০০১ সালে এবং ২০০৮ সালে প্রথম হিমায়িত ভ্রূণ থেকে অপসরা নামক শিশুর জন্ম হয়। তবে বিশ্বজুড়ে প্রাইভেট খাতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ ব্যয়বহুল। নিঃসন্তান দম্পতিরা উপযুক্ত সময়ে আস্থার সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

















