মাতারবাড়ী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পার হলেও এখনো সচল করা সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার সকালে শর্ট সার্কিট থেকে টার্মিনালটিতে আগুন লাগার পর থেকে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর ফলে শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস ছিল না, যার প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনে। সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও ধনুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের অভাবে অন্তত ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস না থাকায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
টার্মিনালটির পোড়া ক্ষত সারাতে যুক্তরাজ্য থেকে তিন প্রকৌশলী বৃহস্পতিবার রাত থেকে কাজ করছেন। তারা পুড়ে যাওয়া কেবলগুলো পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন, তবে কখন নাগাদ এটি পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈঠকেও তারা কোনো নিশ্চিত দিনক্ষণ জানাতে পারেননি। অপারেটর কোম্পানি এক্সিলারেটর জানিয়েছে, ত্রুটিমুক্ত হওয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা টার্মিনাল চালুর ঝুঁকি নেবে না, কারণ এতে জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস বিপজ্জনক হতে পারে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুত মেরামতের জন্য এক্সিলারেটরকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ শিল্প মালিকদের শ্রমিকদের সাময়িক ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জানা গেছে, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গত শুক্রবার রাত ১টায় সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে ৯২৪ (৯২৪) মেগাওয়াট। এদিন দুপুর ১টায় লোডশেডিং ছিল ২৬০ (২৬০) মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশে এখন বৃষ্টি হচ্ছে। তাই বিদ্যুতের চাহিদা অনেক কমেছে। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে হৈ চৈ হচ্ছে না। এ সময় বৃষ্টি না হলে বিদ্যুতের সরবরাহ ভয়াবহ আকার ধারণ করত।
দেশে স্বাভাবিক অবস্থায় দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল দুটির অবদান ১১ কোটি ঘনফুট। একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে ২২০ কোটি ঘনফুটে ঠেকেছে। পেট্রোবাংলা কর্মকর্তাদের মতে, টার্মিনাল চালু হলেও সিস্টেম স্বাভাবিক হতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে রোববার অফিস-আদালত ও কারখানা পুরোপুরি চালু হলে গ্যাসের হাহাকার আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পিডিবি জানিয়েছে, এতদিন গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো ৬ হাজার মেগাওয়াট। শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৩৫০০ মেগাওয়াটে। দুপুর ২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৫৮ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল চালু হতে যত বেশি সময় লাগবে দেশে গ্যাস সংকট তত বেশি বাড়বে। এমনকি টার্মিনাল চালুর ২-৩ দিনেও গ্যাস সরবরাহ সিস্টেম স্বাভাবিক হবে না। কারণ পাইপলাইনের গ্যাস পূর্ণ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তারা বলেন, শুক্রবার এবং শনিবার সরকারি বন্ধের কারণে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম। কিন্তু রোববার থেকে অফিস আদালত এবং সব ফ্যাক্টরি চালু হলে দেশে গ্যাসের জন্য আরও হাহাকার বাড়বে।

















