চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রায় দুই মাস পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বঙ্গভবনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং বাইপাস সার্জারির পরবর্তী সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান মেনে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তার লন্ডন সফরকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের গুঞ্জন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়টি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের যোগাযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিনের সময়কাল থেকেই তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক ছিল। বিরোধী দলগুলো তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তার পদত্যাগ দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটালেও, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা এই পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আলী আক্কাস জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন প্রতীকী ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র নিয়ামক নয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনই বাংলাদেশের রাজনীতির আগামী দিনের গতিপথ নির্ধারণ করবে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ আওয়ামী লীগের জন্য যেমন একটি প্রতীকী ক্ষতি, তেমনি এটি দলকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও আইনি প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগও করে দিয়েছে।

















