ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এই সম্পর্কের দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন এক পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল তাদের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা।
অতীতে মার্কিন রাজনীতির সাথে পরিচিতি এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে নেতানিয়াহু একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই সম্পর্ক আরও জোরালো হয়। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, ইসরায়েলের পরামর্শ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এছাড়া তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে।
ইসরায়েলি সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিনকাসের মতে, এই সফরটি মূলত কূটনৈতিক নয় বরং রাজনৈতিক। অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু এটি প্রমাণ করতে চান যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো অটুট। এছাড়া ট্রাম্পের কাছ থেকে আইনি ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশাও থাকতে পারে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর অবস্থান আগের চেয়ে কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। রিপাবলিকান ঘরানার টাকার কার্লসন ও মার্জোরি টেইলর গ্রিন প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যানের মতে, ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুকে আগের মতো ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে না। অনেকে মনে করেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছিলেন যা শেষ পর্যন্ত কৌশলগত সংকটে পরিণত হয়েছে। জনমত বিশ্লেষক মিচেল বারাকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সেতুবন্ধন নষ্ট করেছেন। ট্রাম্প হয়তো তাকে যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে প্রশংসা করবেন, তবে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নতুন নেতৃত্বের দিকেও তিনি ঝুঁকতে পারেন। সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

















