ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। দিদিয়ের দেশমের দলের জয়ের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। পুরো ম্যাচজুড়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ছিল চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে ফ্রান্স প্রায় ৯০ শতাংশ বল দখলে রাখলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের আক্রমণগুলো প্যারাগুয়ের পাঁচ ডিফেন্ডারের দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়। ১৯৬৬ সালের পর নকআউট পর্বের এই ম্যাচে বিরতির আগে কোনো দলই লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি। ৩৫ মিনিটে আন্দ্রেস কুবাসের ট্যাকলে এমবাপ্পে পড়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৫২ মিনিটে এমবাপ্পের একক প্রচেষ্টার বল হুয়ান কাসেরেসের ট্যাকলে আটকে যায়। এরপর দেম্বেলে ও কোনের শট প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল রুখে দেন। ৬৫ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় দেজিরে দুয়ে বক্সে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৭০ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এটি এবারের বিশ্বকাপে তাঁর সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল। টানা তিন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন ফরাসি অধিনায়ক।
ম্যাচের শেষ দিকে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল এমবাপ্পের দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি। ৭৭ মিনিটে এমবাপ্পে এবং যোগ করা সময়ে ওলিসে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের সাথে বিচ্ছিন্নভাবে তর্কে জড়ান। এমনকি ম্যাচ শেষেও খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে কোচ দিদিয়ের দেশম পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করেন। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল ফ্রান্স, যেখানে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ মরক্কো।

















