আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের চূড়ান্ত দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে। তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শীর্ষ আলোচনায় রয়েছে। দলের নেতারা মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরা ও আন্দোলন সংগ্রামে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা তাকে এই পদের জন্য গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তবে মির্জা ফখরুল ছাড়াও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় আছে। এছাড়া সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও শোনা যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে দলের ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একপক্ষের মতে, তার রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে, অন্যপক্ষের মত হলো, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনো প্রয়োজন। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পর মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জল্পনা আরও বেড়েছে। একটি সেমিনারে মন্ত্রী ইঙ্গিতপূর্ণভাবে মির্জা ফখরুলের উত্তরোত্তর শুভকামনা জানিয়ে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা না পাওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। তাই জামায়াত এ নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়ে সরকারি দল বিএনপি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ১৯৯১ সালের পর সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল, যেখানে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। এবারও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে ১০ জন প্রার্থী, ৪ জন স্বতন্ত্র, ১৬ জন দলীয় প্রতিনিধি, ২ জন পর্যবেক্ষক, ৫ জন রিটার্নিং অফিসার, ১৭২ জন সংসদ সদস্য এবং ৯২ জন ভোটার অংশ নিতে পারেন।

















