ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে প্যারাগুয়েকে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি ঘটেছে, যা কোচ গুহতাবো আলফারোকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। লাতিন আমেরিকার এই দলটি আসরে আরও অনেকদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল।
ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণ সামলাতে প্যারাগুয়ে তাদের রক্ষণভাগকে বেশ জমাট রেখেছিল। তবে শেষ দিকে ডিবক্সে একটি ফাউলের ঘটনায় ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলে কিলিয়ান এমবাপ্পে সফল স্পট কিকে জয়সূচক গোলটি করেন। এই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো বিতর্ক না করে কোচ আলফারো তা মেনে নিয়েছেন।
এর আগে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা প্যারাগুয়ের জন্য একটি অবিশ্বাস্য অর্জন ছিল। সেই সাফল্যের পর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা দেশে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছিলেন। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ড্রেসিংরুমে এখন মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে বলে জানান আলফারো। তিনি বলেন, বিশ্ব মঞ্চে খেলার তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিলেও পরাজয় কখনো সুখকর নয়। তিনি খেলোয়াড়দের শিখিয়েছেন যে, জেতার মানসিকতা রাখতে হলে আগে পরাজয় মেনে নিতে জানতে হয়।
৬৩ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন কোচের সঙ্গে প্যারাগুয়ের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এই বছরের শেষ পর্যন্ত। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। আলফারো বলেন, এই মুহূর্তে তার ক্ষতগুলো টাটকা এবং তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে আছেন। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো কিছু ভাবার অবস্থায় নেই।
প্যারাগুয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই দেশ তার জন্য দরজা খুলে দিয়েছে এবং ক্লাব থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছে। তাদের সবার সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন।

















