রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মোবাইলে ভিডিও ধারণ এবং শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে তিনজনকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে এক রিকশাচালক মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় আ ন ম আয়াস নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ)-এর সদস্যসচিব হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, রিকশাচালকের ফোন চেক করেন। আয়াসের নেতৃত্বে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ধারী একদল জনতা ওই রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে রিকশাচালককে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, অর্ণব দাস টাঙ্গাইলের বাসিন্দা এবং তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রিকশাচালককে মারধরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। একই দিনে দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিলি করছেন এমন অভিযোগে আরও একজনকে মারধর করা হয়। ওই ব্যক্তির হাতে থাকা ব্যাগে শিঙাড়া দেখা গিয়েছিল এবং মারধরের মুখে তিনিও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের দাবি করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যেন কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য তারা সেখানে অবস্থান করছেন এবং কাউকে সন্দেহভাজন মনে হলে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মব সৃষ্টি করে মারধর করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মব সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন জানান, এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ওই বাড়ির দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা গেছে। বাড়ির সামনের সড়কে যানবাহন ও সাধারণের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও পুলিশের সাঁজোয়া যান প্রস্তুত থাকতে দেখা গেছে।

















