নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার অনার্স পর্যায় পর্যন্ত তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই শিক্ষার যাবতীয় খরচ রাষ্ট্র বহন করবে। একই সঙ্গে যেসব নারী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশের হাল ধরতে পারে।
শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামগঞ্জের হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বছরে একবার স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নিয়মিত নতুন বইয়ের পাশাপাশি এই স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নারীদের স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যেসব পরিবারের নারী প্রধান হিসেবে সংসার পরিচালনা করেন, তাদের হাতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















