হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে একটি নতুন অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই অস্থায়ী রুটটির প্রবেশপথ এবং বের হওয়ার পথের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। প্রায় সাত মাইল বা ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই নৌপথের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বৈঠক করেছেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আশা প্রকাশ করেছেন যে, দুই দেশ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌপথের ঘোষণা দিতে পারবে। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও নিরাপত্তা পরিষেবার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই সমঝোতা মানেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া নয়। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে না। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মাইন অপসারণের দাবিকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে বাজার শান্ত করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, মার্কিন মাইন শনাক্তকারী জাহাজ এই এলাকায় প্রবেশ করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে এই হরমুজ প্রণালি। ১৯৬৮ সালের আন্তর্জাতিক ট্রাফিক রুটের পরিবর্তে ইরান নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমায় নতুন পথ চালুর দাবি তুলেছিল। পরবর্তীতে ওমান ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সহায়তায় নতুন রুট ঘোষণা করা হলেও ইরান তা সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে দাবি করে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার প্রণালির প্রবেশমুখের কাছে ওমানের আশ শিসাহ এলাকায় একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে বৃটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে।

















